দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কয়লা রফতানি কমেছে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চাহিদার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহের ধারায় পরিবর্তনের কারণে এ নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইন্দোনেশিয়া সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা রফতানি করেছে। গত বছর একই সময়ে রফতানির পরিমাণ আরো অনেক বেশি ছিল। তবে রফতানি কমলেও কয়লার বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, তাদের এ তথ্য মূলত শুল্ক বিভাগ বা কাস্টমস অফিসের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তবে দেশটির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে এ পরিসংখ্যানের কিছুটা অমিল থাকতে পারে। কারণ মন্ত্রণালয় সাধারণত বিভিন্ন খনি কোম্পানির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। মূলত তথ্যের উৎসের ভিন্নতার কারণেই এ দুই সংস্থার পরিসংখ্যানে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশকিছু দেশের জ্বালানি ব্যবহারের অভ্যাসে পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার মূল্যের ওঠানামা এ রফতানি কমার পেছনে মূল কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, এশিয়ার দেশগুলোয় কয়লার চাহিদা ও বিভিন্ন পরিবেশগত নীতির প্রভাব এ খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কয়লা রফতানিকারক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এমন চিত্র একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রফতানি কমার নির্দিষ্ট কোনো কারণ পরিসংখ্যান ব্যুরো সরাসরি উল্লেখ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খনিতে উত্তোলন ব্যাহত হওয়া কিংবা লজিস্টিক বা পরিবহন খাতের কিছু জটিলতা এর কারণ হতে পারে। বছরের বাকি সময়ে এ পরিস্থিতির কী পরিবর্তন ঘটে, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, আগামীতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে এ পরিস্থিতির সমন্বয় কীভাবে হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দেশটির খনি খাত।